রাত জাগার ক্ষতি ও ভোরে কাজের উপকারিতা
রাত জাগার ক্ষতি ও ভোরের কাজের উপকারিতা বর্তমানে রাত জেগে কোন কিছু করার জন্য অতি সাধারণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটি তো আরো বেশি, তারা মনে করে রাতে কাজ করলে কাজের বেশি মনোযোগ দেওয়া যায় । শান্তি মত কাজ করা যায।
কিন্তু বাস্তবিক রূপ অন্যরকম রাত জাগলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করব এ বিষয় নিয়ে আশা করি আর্টিকেলটি আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয় হবে।
সূচিপত্র ঃ রাত জাগার ক্ষতি ও ভোরে কাজের উপকারিতা
- রাত জাগার পেছনে কারনসমূহ
- কেন রাত জাগা শরীরের জন্য ক্ষতিকর
- রাত জাগা ও শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক এর ওপর প্রভাব
- রাত জাগা ও খাবারের সম্পর্ক
- রাত জাগলে সৃজনশীলতা কি সত্যিই বাড়ে
- ভোরে কাজ করলে ঠিক কি কি উপকার পাওয়া যায়
- ভোরে ওঠার জন্য কার্যকরী টিপস
- ভোরের বাতাস ও প্রাকৃতিক আলো স্বাস্থ্যের সেরা ওষুধ
-
পর্যাপ্ত ঘুম বনাম রাত জাগা এর মধ্যে পার্থক্য
- প্রশ্ন ও উত্তর
- শেষ কথা
রাত জাগার পেছনে কারনসমূহ
রাত জাগার পিছনে কারণসমূহ উল্লেখ করতে হলে বর্তমান জেনারেশন বা বর্তমান যুগে রাত
জাগা যেন একটি ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে হাজারো যুক্তি আর তর্কের মধ্যে
বর্তমান জেনারেশন রাত জাগতে শুরু করে চলুন আজকের আর্টিকেলে রাত জাগার কিছু
কারণসমূহ উল্লেখ করি।
মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তিঃ
রাত জাগার কারণসমূহ যদি খুঁজতে যায় তাহলে প্রথম এবং প্রধান কারণ। হাতে
হাতে মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি বর্তমান যুগে প্রায় সবার হাতে
এন্ড্রয়েড ফোন বা ল্যাপটপ কম্পিউটার রয়েছে। এবং একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া যেমন
ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম , টুইটার সহ অনেক সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে
যেগুলোতে সময় দিতে গিয়ে বর্তমান জেনারেশন রাত জেগে থাকে।
আর একটু সময় থাকবো তারপর ঘুমিয়ে পড়বো। এই করতে করতে কখন রাত পেরিয়ে ভোর
হয়ে যায়। বর্তমান জেনারেশনের রাত জাগার তাই মুখ্য কারণ হিসেবে মোবাইল ও সোশ্যাল
মিডিয়া সবার উপরে রয়েছে।
পড়াশোনার চাপঃ
পরীক্ষার আগের রাতের সারা রাত ধরে পড়াশোনা যেন সবারই একই ধারা রাতে পড়াশোনা
করলে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা যায়। নিস্তব্ধ নীরব পরিবেশে পড়াশোনা
অত্যন্ত ভালো হয় বর্তমান জেনারেশনের তাই ধারণা আর রাত জাগার জন্য এটি আরেকটি
মোক্ষম বাহানা।
কাজের চাপ বা ফ্রিল্যান্সিংঃ
অনেকে সারাদিন অফিসে কাজ করেও কাজ শেষ করতে না পারায় বাসায় বসে ল্যাপটপ বা
কম্পিউটারে কাজ করতে থাকে আবার যারা ফ্রিল্যান্সিং করে তারা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ
করতে থাকে কাজ করতে করতে সারা রাত পেরিয়ে ভোর করে ফেলে আর এ কাজের চাপে কখন যে
ভোর হয়ে যায় তাদের যেন খেয়ালই থাকে না।
লাইফস্টাইল ডিসওর্ডারঃ
বর্তমান জেনারেশন রাত জেগে ঘুরে বেড়ানো আড্ডা চা কফি খেয়ে অনিয়ন্ত্রিত জীবন
পরিচালনা করে থাকে যার ফলে দীর্ঘ রাত জেগে আড্ডা দেওয়া, বাসায় ফিরতে দেরি
করা এসব কারণ ও রাত জাগার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মনোজগতের সমস্যাঃ
বর্তমান সময়ে যুবক বা তরুণদের মাঝে স্ট্রেস হতাশা ডিপ্রেশন ইত্যাদি বহুবিধ কারণ
যেন যুবসমাজকে ঘুমাতে দেয় না। সমাজের কঠিন বসবাস বা জীবনযাপন দিনে দিনে
কঠিন থেকে কঠিনতর হওয়ার কারণে ডিপ্রেশন এবং বিভিন্ন হতাশার জন্য রাতে যেন ঘুমাতে
দেয় না বর্তমান জেনারেশনকে।
কেন রাত জাগা শরীরের জন্য ক্ষতিকর
বর্তমান সময়ে রাত জাগা যেন প্রায় প্রতিটা মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সবাই
রাতে বিভিন্ন কাজকর্ম রাখতে চলেছে অর্থাৎ দিনে যেমন করে মানুষ কাজকর্ম করে
ঠিক তেমনি করে রাতেও কাজকর্ম করতে চায়। এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠান , বিবাহ
বা জন্মদিন এসব পালন বর্তমানে সময়ে অনেকে রাতকে বেছে নেই । রাতে ঘুরে
বেড়া আড্ডা এসব মানুষের খুব পছন্দ কিন্তু রাত জাগলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর
পদার্থ জমতে থাকে।
ঘুম হরমোনঃ
রাতে অন্ধকারে শরীর মেলাটনিন হরমোন তৈরি হয় যা ঘুম আনে কিন্তু মোবাইল লাইট
স্কিনের আলো এই হরমোন তৈরি কমিয়ে দেয় যার ফলে ঘুম আসতে দেরি করে। গভীর ঘুম কমে
যায় রাতে বারবার ঘুম ভেঙ্গে যায় দীর্ঘমেয়াদ একটি ঘুমের ব্যয়েতের পরিণত হয়ে
থাকে ধীরে ধীরে এমনকি মানসিক সমস্যা বাড়ে। অর্থাৎ স্ট্রেস উদ্যোগ টেনশন রাগ
হতাশা বাড়তে থাকে কারণ তাতে ঘুম না হওয়ার কারণে মস্তিষ্ক পুরোপুরি বীরশ্রম পায়
না।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে ঃ
ঘুমের সময় শরীর নিজেকে রিপেয়ার করে অর্থাৎ ঘুমের সময় মস্তিষ্ক সমস্ত শরীরকে
আরাম দিয়ে আবার শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে পরবর্তী দিনের জন্য বা পরবর্তী
কার্যক্ষমতার জন্য ঘুম মস্তিষ্কের জন্য চার্জারের মতো অর্থাৎ কোন মোবাইলকে যদি
চার্জ দেওয়া হয় সে যদি রিচার্জ হয়ে শক্তি সম্পন্ন হয়ে ফেরত আসে তেমনি তৃপ্তির
ঘুম ফলে মস্তিষ্ক তার পূর্ণ শক্তি নিয়ে ফেরত আসে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার দুর্বল হয়
আগেই বলেছি ঘুম মানুষকে নতুন শক্তি দেয় এবং পুরো উদ্যমে পরবর্তী কার্যক্রমের
জন্য শক্তি যোগান দেয় কিন্তু যদি না ঘুমিয়ে রাত জেগে যাই করানো হোক না কেন রাত
জাগার ফলে ঘুমের সময় শরীর নিজেকে রিপেয়ার করে রাত জাগলে এই প্রক্রিয়া বন্ধ
হয়ে যায় ফলে সর্দি কাশি ভাইস ও বা সংক্রমণ রোগ লেগে থাকা শরীর দুর্বল হয়ে পড়া
এসব ঠিকমতো না ঘুমালে হয়।
হৃদরোগের ঝুঁকি পারেঃ
রাত জাগলে সাধারণত রক্তচাপ বেড়ে যায় যার ফলে হৃদয় স্পন্দন অস্বাভাবিক
হয় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে না । শরীরে ইম্প্রেসন ইন প্লেবয়শন বাড়ে
এবং ধীরে ধীরে বিভিন্ন অসুখে শরীরে বাসা বাঁধে যেমন হার্ট অ্যাটাক,
স্ট্রোক উচ্চ রক্তচাপ , এ ধরনের কঠিন এবং গুরুতর রোগে ভুক্ত দেখা যায়।
আয়ু কমে যেতে পারেঃ
দীর্ঘদিন রাত জাগার ফলে শরীরে বিভন্ন ধরনের অসুখ বাসা বাঁধে এবং সেসব অসুখ
মানুষকে ভিতর থেকে কুরে কুরে খায় অর্থাৎ মানুষের জীবন রাত জাগার কারণে ধীরে ধীরে
মৃত্যুর দিকে ধাবিত হয় বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে যে দীর্ঘদিন রাত জাগা
মানুষের আয়ু কমে যায় কারণ হাট হার্ট, মস্তিষ্ক ইমিউন সিস্টেম মেটাবলিজম
সবকিছু দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত
হয়।
রাত জাগা ও শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক এর ওপর প্রভাব
মানুষের শরীর এক ধরনের বায়োলজিক্যাল ক্লক এর মত কাজ করে। একটু বুঝিয়ে বলতে গেলে
বলতে হয় মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় প্রতিদিনের যে কাজ রয়েছে সে কাজের মাত্রাটা
ঘড়ির যে ঘূর্ণন অবস্থায় থাকে সেরকম ভাবে কাজ করে । অর্থাৎ যদি শুরু করা হয়
ঘুম, তারপর ঘুম থেকে ওঠা , ঘুম থেকে উঠে খাওয়া অর্থাৎ ক্ষুধা নিবারণ
করা, হরমোন গুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করা এর ফলে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন এবং
সবশেষে এনার্জি লেভেল।
একটি একটি করে যদি বিশ্লেষণ করা যায় তাহলে বলতে হয় ঘুম হচ্ছে মানুষের শরীরের
এনার্জি বা শক্তির উৎসগুলোর মধ্যে একটি উৎকৃষ্ট উৎস যখন কোন মানুষ ঘুমায় তার
শারীরিক সবগুলো কাঠামো শক্তি অর্জন করে আর এই যে কাঠামো গুলো চক্রাকৃতি আকারে কাজ
করে তাকে বলা হয় বায়োলজিক্যাল ক্লক বা ঘড়ি।
যদি সঠিক সময়ে ঘুম না হয় অর্থাৎ সঠিক সময়ে ঘুমিয়ে না পড়া হয়। তাহলে
এই বায়োলজিক্যাল ক্লক তার সঠিক দিক নির্দেশনা বা সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না আর
তার ফলে সকালে ঘুম ভাঙ্গে না। দুপুরে মাথা ভর লাগে, রাতে ঘুম আসে না , পুরো
শরীর অসমরস্য হয়ে পড়ে অর্থাৎ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ পতঙ্গ অসুস্থ হয়ে পড়ে ধীরে
ধীরে।
রাত জাগা ও খাবারের সম্পর্ক
রাত জাগা শুধু শারীরিক বা মানসিক শরীরের উপর প্রভাব ফেলে এমন নয় এটি আমাদের
খাদ্যের অভ্যাস এর ব্যাপারেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ফেলে বা প্রভাব ফেলে অতিরিক্ত
রাত জাগার কারণ থেকে খাবার প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। অনেক সময় খেয়াল করে
দেখবেন যে রাতে জেগে থাকলে হঠাৎ করে খুব ক্ষুধা লাগে বিশেষ করে জাঙ্কফুট বা
মিষ্টি খাবার খেতে ইচ্ছা করে এটা শুধু অভ্যাসের কারণে নয় এর পেছনে রয়েছে
বৈজ্ঞানিক কিছু কারণ।
ঘ্রেলিন নামক একটি হরমোন রয়েছে মানব দেহের শরীরে যা শরীরে খুদা
বাড়িয়ে দেয় রাত জাগলে ঘ্রেলিন এর পরিমাণ বেড়ে যায় অনেকাংশে ফলে
বারবার খেতে ইচ্ছা করে খেতে থাকলেও যেন ক্ষুধার চাহিদা কমে না
অন্যদিকে আরও একটি হরমোন রয়েছে যার নাম লেপটিন এটি বলে পেট ভরে গেছে অর্থাৎ
রাত জাগলে শরীরে লেপটিনের পরিমাণ কমে যায় যার কারণে পেট ভরে গেলেও বেশি খেতে
ইচ্ছা করে।
রাত জেগে থাকলে মস্তিষ্কে অতিরিক্ত সক্রিয় থাকে অর্থাৎ মস্তিষ্ক আরাম
পায় না এবং কাজ করতে থাকে যার ফলে মস্তিষ্ক শরীরের এনার্জি খরচ বাড়িয়ে দেয়
এবং শরীর ঘুম না পেয়ে বিভ্রান্ত হয় ফলের শরীর মনে করে এনার্জির দরকার খাবার
খেতে হবে তখনও ক্ষুধা অফুরন্ত হবে জেগে ওঠে বিশেষ করে চিনি ও কার্বোহাইড্রেট
যুক্ত খাবার খেতে বেশি মন চায়।
আরো কিছু কারণে রাত জাগা ও খাবারের সম্পর্ক আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এ
কথা বলাই যায় যে রাত জাগার ক্ষতি ও ভোরের কাজের উপকারিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ
তা বলার ভাষা হয়তো নেই তার মানে বলা হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
রাত জাগলে সৃজনশীলতা কি সত্যিই বাড়ে
রাত জাগলে সৃজনশীলতা কি সত্যিই বাড়ে তার উত্তরে বলতে হয় যে কখনই না রাত
জাগলে কখনোই সৃজনশীলতা বাড়ে না বরং সৃজনশীলতা কমে যায় মস্তিষ্কে বিভিন্ন ধরনের
রোগ সৃষ্টি হয় মানসিক দুশ্চিন্তা মন মেজাজ খিটখিটে অবস্থা এবং সঠিক বিচার
বিশ্লেষণ অর্থাৎ কোন কিছুর বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না
অনেকাংশে।
পর্যাপ্ত ঘুম যে কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ক্ষেত্রে অনেক উপকার করে
মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে অন্যদিকে ঘুমের অভাবে অর্থাৎ
রাত জাগলে সেসব সংযোগ স্থাপন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় যার জন্য মস্তিষ্কের বিস্তার বা
আরামের জন্য অবশ্যই পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজন।
মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মস্তিষ্ক সেই মস্তিষ্ক যদি সঠিকভাবে কাজ
করতে না পারে তাহলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সঠিক ভাবে নেওয়া সম্ভব হয় না
এবং এই মস্তিষ্ক শরীরের অন্যান্য অংশকে সিদ্ধান্ত বা সঠিকভাবে জীবন পরিচালনা করার
ক্ষেত্রে বার্তা প্রেরণ করে যার ফলে মানুষ তার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে এর জন্য
মস্তিষ্ককে আরাম দেওয়া বা সুস্থ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন আর সেটা হতে পারে
পর্যাপ্ত ঘুমের ফলে।
ভোরে কাজ করলে ঠিক কি কি উপকার পাওয়া যায়
রাত জাগার ক্ষতি ও ভোরের কাজের উপকারিতা এতক্ষণ আমার আর্টিকেলে আলোচনা করলাম রাত
জাগার ক্ষতিসমূহ। এখন আলোচনা করব ভোরে কাজ কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ বা এ কাজ করলে কি
কি উপকার হয়।
ভোরের দিকে চারিদিক পরিবেশ শান্ত থাকে তাই এ সময় কাজের মনোনিবেশ অত্যন্ত
উপকারী হয় এক কথায় কাজের উৎপাদনশীলতা বাড়ে। আর একটু ব্যাপক আলোচনা করলে রাত্রে
একটা শান্তির ঘুম দিয়ে যখন ঘুম থেকে ওঠা হয় ভোরের বাতাস যখন শরীরে লাগে। তখন
একটা স্নিগ্ধ পরশ যেন মন শান্তি করে দেয় যার ফলে কাজের কর্ম দক্ষতা অত্যন্ত বেশি
হয়।
ভোরে কোন কাজ করলে সেই কাজের সে কাজের মনোযোগ শতভাগ দেওয়া সম্ভব হয় ।মন শান্তি
থাকে এবং শরীর বা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী শরীরের জন্য
ভোরে ওঠা অত্যন্ত উপকারী । আরেকটি বিষয় না বললেই নয় ভোরে উঠে কোন কাজ করলে
সে কাজ এর সময় অনেক পাওয়া যায় অর্থাৎ দেরি করে ঘুম থেকে উঠলে দিনের শেষ
সময়টুকু নষ্ট হয়ে যায় কোন কাজ করা হয় না।
অপরদিকে সকালে ঘুম থেকে উঠলে দিনের বা কাজের সময় অনেক বেশি পাওয়া
যায়। নিয়মিত ভোরে ঘুম থেকে উঠলে একটি ভালো অভ্যাস অর্থাৎ নিয়ম-নীতির
মধ্যে জীবন যাপন করা সম্ভব হয় অপরদিকে ভোরে ঘুম দিকে দেরি করে উঠলে একটা বদ
অভ্যাস বা শরীরের জন্যও খুবই খারাপ অভ্যাস পরিণত হয়।
ভোরে ওঠার জন্য কার্যকরী টিপস
আজকের আর্টিকেল রাত জাগার ক্ষতি ও ভোরের কাজের উপকারিতা এর এই ভাগে আলোচনা করব
ভরে ওঠার জন্য কার্যকরী টিপস আমরা বর্তমানে মোবাইল এবং কম্পিউটার এর যুগে অর্থাৎ
ডিজিটালেশন এর যুগে এসে অনলাইন ভিত্তিক হওয়ার কারণে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়েছে
যার ফলে হারিয়েছি ঘুম হারিয়ে যাচ্ছে নিজের শরীরের কার্যক্ষমতা তাই এসব অভ্যাস
থেকে রাতে দেরি করে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে ঘুম থেকে সময় মতো না ওঠা আমাদের
অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
ঘুমানোর পরিবেশঃ
যে কোন অভ্যাস হঠাৎ করে পরিবর্তন করা সম্ভব নয় তাই ভোরে ওঠার জন্য কিছু পদ্ধতি
অবলম্বন করুন একসাথে সব বদ অভ্যাস বা সব অভ্যাস পরিবর্তন করতে যাবেন না সে
ক্ষেত্রে পরিবর্তনটা সম্ভব হবে না তাই পরিবর্তন ধীরে ধীরে আস্তে আস্তে করুন আমি
আজকের আর্টিকেলে বর্ণনা করছি কিভাবে ভরে ওঠার অভ্যাসটা গড়ে তুলবেন।
প্রথমত একটি রুটিন তৈরি করুন রাতে একই সময় ঘুমাতে যাবেন অর্থাৎ প্রতিদিন
নির্দিষ্ট টাইমে ঘুমাতে যাওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন ধরে নিয়ে গেলাম আপনি
রাত দশটার দিকে ঘুমাতে যাবেন তাহলে আপনি রুটিন করুন রাত দশটায় ঘুমাতে যাওয়ার
মোবাইল এবং টেলিভিশন থেকে দূরে থাকুন ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিজেকে প্রস্তুত করুন
ঘুমানোর জন্য পরিবেশ তৈরি করুন একটি আরন্দায়ক পরিবেশ তৈরি করুন।
ঘুমানোর জায়গা অর্থাৎ বিছানা তে মোবাইল নেবেন না এবং বিছানা যাতে আরামদায়ক হয়
অর্থাৎ বিছানার চাদর বালিশ ঘুমানোর জন্য যেসব সরঞ্জাম লাগে সেগুলো
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আছে কিনা বা আরামদায়ক আছে কিনা সেটা নিশ্চিত করুন আর
পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অবশ্যই প্রয়োজন কারণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা না থাকলে
বিছানার চাদর বা বালিশে অনেক ধরনের জীবাণু থাকবে যা আপনার ঘুমের ব্যাঘাত
ঘটাবে।
ঘুমানোর জন্য আরামদায়ক পরিবেশের মধ্যে আরেকটি হচ্ছে যে রুমে বা ঘরে আপনি থাকবেন
বা ঘুমাবেন সেই রুমটি অন্ধকার রাখুন মশা মাছি বা বিভিন্ন প্রাণী রয়েছে যা
ঘুমানোর জন্য বিরক্তকর হয়ে দাঁড়ায় সেগুলোতে বাঁচানোর জন্য মশারি বা অন্য কোন
আরামদায়ক পদ্ধতি অবলম্বন করুন পর্যাপ্ত ঘুম হলে সকালে ওঠা অনেকটাই সহজ হয়ে
যায়।
ঘুম থেকে উঠে কার্যকারিতাঃ
ঘুম থেকে ওঠার পরে কিছু অভ্যাস রয়েছে সেগুলো করতে হবে প্রতিদিন রাতে
প্রায় ৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন এবং ঘুম থেকে উঠে কিছু ব্যায়াম নিয়মিত
করুন মনে রাখবেন ব্যায়াম করার জন্য উজ্জ্বল আলো অর্থাৎ খোলা আলো বাতাস অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ যদি আশেপাশে পার্ক থাকে তাহলে সেখানে যান না হলে বাড়ির ছাদে
ব্যায়ামটা করতে পারেন।
অল্প কিছু ব্যায়াম শরীরের জন্য সারাদিনের টনিক হিসেবে কাজ করবে অর্থাৎ আপনার
শরীরকে সতেজ করবে এবং কাজের কর্মক্ষমতা অনেক অংশে বাড়িয়ে দেবে। আর সেজন্যই বলছি
সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্যায়ামটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুমাতে যাবার এবং সকালে ওঠার সময়সূচী
প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি বা সময় নির্ধারণ করে ঠিক রাখুন এবং ঘুম থেকে
উঠারও সময়সূচী ঠিক রাখুন ফজরের নামাজ যদি পড়তে পারেন সব থেকে উপকারী একটি
জিনিস। ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে আপনার ধর্মের উপাসনা করে দিন শুরু করলেন
আপনার দিনটা ভালো যাবে আশা করা যায়।
ঘুমাতে যাবার এবং সকালে ওঠার সময়সূচি ঠিক রাখুন একদিনের চেঞ্জ করা সম্ভব না তাই
প্রতিদিন একটু একটু করে অর্থাৎ ১০ মিনিট ১৫ মিনিট এভাবে করে নিজের বদ অভ্যাসটা
পরিবর্তন করুন এবং নিজেকে অভ্যাসের মধ্যে নিয়ে আসুন।
ভোরের বাতাস ও প্রাকৃতিক আলো স্বাস্থ্যের সেরা ওষুধ
ভোরের বাতাস ও প্রাকৃতিক আলো স্বাস্থ্যের সেরা ওষুধ একথা একদম সত্য কথা এর বেশ
কিছু ভালো দিক রয়েছে যা আপনাদের জানা প্রয়োজন আজকের আর্টিকেল রাত জাগার ক্ষতি ও
ভোরে কাজের উপকারিতা উল্লেখ করবো ভোরের বাতাস ও প্রাকৃতিক আলো স্বাস্থ্যের জন্য
কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
ভোরের বাতাসঃ
ভোরে বাতাস সবসময় স্নিগ্ধ থাকে তার কারণ হিসেবে রাত্রে পরিবেশ দূষণ অনেক
সময় যানবহন না চলার কারণে বা মানুষজনের সমাগম না থাকার কারণে এই দীর্ঘ সময় পর
ভোরের বাতাস ঠান্ডা ও স্নিগ্ধ এবং ধুলাবালি মুক্ত স্বাস্থ্য এর জন্য অনেক উপকারী
হয়ে থাকে যার ফলে ভোরের বাতাসের গুরুত্ব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভোরের স্নিগ্ধ বাতাস শরীর ও মনের কে এতটা চাঙ্গা করে দেয় যে সারাদিন প্রশান্তি
ভাবে কাজ করা সম্ভব হয় আবার সকালের মিষ্টি রোদ শরীর ও মনের ভিটামিন ডি এর অভাব
পূরণ করে যা ভোরের সূর্যের আলো এর মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব হয়।
প্রাকৃতিক আলোঃ
সূর্য যখন পূর্ব দিকে ওঠে তার মিষ্টি রোদ এবং মনোরম পরিবেশ মনকে এক শান্তি এনে
দেয় সকালে সূর্যালোকের আলো শরীরের ভিটামিন ডি এর ঘাটতি পূরণ করে যা শরীরে
হাড্ডি এর জন্য অনেক উপকারী এবং সকালে নির্মূল বাতাস ফুসফুস এর জন্য অত্যন্ত
উপকারী। দিনের আলো বাড়ার সাথে সাথে মানুষের সমাগম যানবাহনের সমাগম সবকিছু
বাড়তে থাকে পরিবেশ ও তার নিয়ম অনুযায়ী দূষিত হয়ে থাকে এর জন্য আমরা দায়ী
হলেও সকালে পরিবেশ এবং আলো মানুষের জন্য অত্যন্ত উপকারী হয়ে থাকে।
সকালে নির্মূল বাতাস এবং প্রাকৃতিক আলো বা সূর্যের আলো গ্রহণ করায় শরীরের
হিউম্যানিটি বেড়ে যায় অর্থাৎ বিভিন্ন রোগবালা থেকে শরীর নিজেকে রক্ষা করার
জন্য সকালের আলো এবং বাতাস থেকে শক্তি সঞ্চয় করে থাকে। অর্থাৎ এ কথা বলা
যায় যে সকালের বাতাস এবং আলো আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
পর্যাপ্ত ঘুম বনাম রাত জাগা এর মধ্যে পার্থক্য
| বিষয় | পর্যাপ্ত ঘুম | রাত জাগা |
|---|---|---|
| স্বাস্থ্যের উপকারিতা | পর্যাপ্ত ঘুম শারীরিক বৃদ্ধি শরীরের বিভিন্ন টিস্যু মেরামত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য | অপরদিকে রাত জাগা শরীরের বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাঁধে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দেখা যায় |
| কর্ম ক্ষমতা বৃদ্ধি | পর্যাপ্ত ঘুমের ফলে শরীরের কার্যক্ষমতা অনেকটা বেড়ে যায় | শরীরের কার্যক্ষমতা কমে যায় দুর্বলতা দেখা দেয় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না |
| মেজাজ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ | পর্যাপ্ত ঘুমের ফলে মেজাজ মানসিক চাপ কম থাকে যার ফলে মেজাজ বা মন ভালো থাকে | রাত জাগার ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দেখা যায় যার ফলে মেজেজ ঠিক থাকেনা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। |
| ইমিউন | ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী থাকে। | ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয় |
| দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব | আয়ু বাড়ে, শরীর ও মনের সার্বিক সুস্ততা বজায় থাকে। | বার্ধক্য দ্রুত আসে, মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। |
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নঃ রাত জাগার ফলে কি কি রোগ হয় ?
উত্তর ঃ রাত জাগার ফলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দেখা যায় যার ফলে মেজেজ ঠিক
থাকেনা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়। বার্ধক্য দ্রুত
আসে, মানসিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
প্রশ্নঃ ভোরে ঘুম থেকে উঠলে কি কি উপকার হয় ?
উত্তর ঃ সকালে নির্মূল বাতাস এবং প্রাকৃতিক আলো বা সূর্যের আলো গ্রহণ করায় শরীরের
হিউম্যানিটি বেড়ে যায় অর্থাৎ বিভিন্ন রোগবালা থেকে শরীর নিজেকে রক্ষা
করার জন্য সকালের আলো এবং বাতাস থেকে শক্তি সঞ্চয় করে থাকে। অর্থাৎ এ
কথা বলা যায় যে সকালের বাতাস এবং আলো আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বাড়ায়।
প্রশ্নঃ ঘুমাতে যাবার এবং সকালে ওঠার সময়সূচী?
উত্তর ঃ রাতে ঘুমোতে যাওয়ার এবং সকালে ওঠার সময়সূচী একই থাকা উচিত
প্রতিদিন অর্থাৎ যদি আপনি রাত দশটার সময় ঘুমাতে যান তাহলে প্রতিদিন একই টাইমে
ঘুমোতে যাওয়া উচিত যদি আপনি সকাল ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠেন তাহলে আপনাকে
প্রতিদিন ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠা উচিত ধীরে ধীরে এটা অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।
প্রশ্নঃ রাত জাগলে কি সৃজনশীলতা বাড়ে?
উত্তর ঃ না, রাত জাগলে সৃজনশীলতা বাড়ে না বরং সৃজনশীলতা কমে যায়
মানসিকভাবে অনেক ধরনের রোগ বা সমস্যা সৃষ্টি হয়।
প্রশ্নঃ পড়াশুনা বা কাজের জন্য রাত জাগা কি ফলপ্রসু?
উত্তর ঃ পড়াশোনা বা কাজের জন্য রাত জাগলে সেটা স্বল্প মেয়াদী হলে অর্থাৎ
মাঝে মাঝে হলে হয়তো ফলপশু হতেও পারে কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদ এর ক্ষেত্রে এটি
ফলপ্রসু না হয়ে শরীরে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়।
প্রশ্নঃ ঘুমের অভাবে শরীরের কোন হরমোন গুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
উত্তর ঃ লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যার ফলে ক্ষুধা বেড়ে
ওজন বাড়তে পারে।
প্রশ্নঃ ভোরে কাজ করলে মনোযোগ কেন বৃদ্ধি পায়?
উত্তর ঃ সারারাত ঘুমানোর ফলে শরীর ও মন সম্পূর্ণ এনার্জিটিক থাকে এবং
সকালে পরিবেশ শান্ত থাকে। যার ফলে এ সময় কাজ করলে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া যায়
এবং মনোযোগ বৃদ্ধি পায়।
প্রশ্নঃ ভোরে ওঠা অভ্যাস কি উৎপাদনশীলতা বাড়ায়?
উত্তর ঃ হ্যাঁ । ভোরে উঠলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে সময় বেশি পাওয়া যায়
প্রাধান্য অনুযায়ী কাজ করে সফলতা অর্জন করা যায়।
প্রশ্নঃ নিয়মিত রাত জাগা কি আয়ুর উপর প্রভাব ফেলে?
উত্তরঃ হ্যাঁ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যে রাতে না ঘুমিয়ে বেশি জেগে
থাকলে বার্ধক্যের লক্ষণগুলো দ্রুত দেখা যায় এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঢলে
পড়ে জীবন।
প্রশ্নঃ ভোরে ব্যায়াম করার সুবিধা গুলো কি কি?
উত্তরঃ ভোরে ব্যায়াম করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায় খুব ভোরে ব্যায়াম
করলে শরীর ও মন সতেজ হয় যার ফলে কার্যক্ষমতা বেড়ে যায় অনেকাংশে। এবং
সারাদিন প্রফুল্ল ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা যায়।
শেষ কথা
আজকের আর্টিকেলে উপরোক্ত আলোচনায় রাত জাগার ক্ষতিসমূহ এবং ভোরের
কাজের উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করলাম আসলেই নিজেই পরীক্ষা করতে পারবেন ভোরে
ঘুম থেকে উঠলে বাইরে বাতাস যখন শরীরে এসে লাগে অন্যরকম এক ভালোলাগা কাজ করবে তা
ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না এটি অনুভবের বিষয় অনুভব করেই বুঝতে হবে।
আজকের আর্টিকেলের চেষ্টা করেছি ভরে ঘুম থেকে ওঠার গুরুত্ব এবং রাত জেগে
তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাওয়া জীবনের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ আশা করি আলোচনা করতে
পেরেছি আর্টিকেলটা পড়ে যদি ভালো লাগে লাইক কমেন্টস করবেন আর কি কি বিষয় আলোচনা
করা যায় বা আর্টিকেল লেখা যায় সাজেশন দিবেন।



টাইম বিডি ২৪ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url