এখন শীতকাল বছরে অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীতকাল বাংলাদেশে ভ্রমণ
পিপাসু মানুষদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং মোক্ষম সময় আর তাই এই শীতকাল
বাংলাদেশের মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যাবার জন্য বেছে নেয়।
ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের স্বর্গরাজ্য
ভ্রমন পিপাসু মানুষের জন্য আজকের এই আর্টিকেল বাংলাদেশ আয়তনের দিক দিয়ে
ছোট হলেও এর সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা কোন অংশে কম নয়।বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বলতে
গেলে পাহাড় পর্বত, নদী নালা, বন জঙ্গল, সুবিশাল চা
বাগান, বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত, মানুষের আতিথিয়তা সবকিছুই
ভ্রমণ করবার জন্য বাংলাদেশ একটি উৎকৃষ্ট দেশ যেখানে সৌন্দর্য ছড়াছড়ি বললেই কম
বলা হবে।
আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করতে চলেছি বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় সমুদ্র সৈকত এর
বিষয়ে চেষ্টা করব সর্ব দিক থেকে সৌন্দর্যমন্ডিত সমুদ্র সৈকত সম্বন্ধে
আপনাদেরকে বলতে আজকের আর্টিকেলের মাধ্যমে যেগুলো আপনার ভ্রমণ লিস্টে থাকা জরুরি
বলে মনে করি।
ভ্রমণ করার সময়কাল
ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের জন্য সময় কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না ভ্রমণের জন্য
তারপরও শীতকাল সব থেকে উৎকৃষ্ট একটি সময় ভ্রমণ করার জন্য তার কিছু দিক রয়েছে
বাংলাদেশের গরম কালে প্রচন্ড গরম পড়ে এতটাই গরম পড়ে যে বাইরে বের হয়ে ঘুরে
বেড়ানো বেশ কষ্টসাধ্য এবং অস্বস্তিকার হয়ে থাকে যার ফলে শীতকাল টাই বেছে নেয়
ভ্রমণ করবার জন্য বাংলাদেশের মানুষ সহ পৃথিবীর অন্যান্য মানুষ।
শীতকাল বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা যায় শীতকালে দিনের বেলা আবহাওয়া থাকে
ভালো অত্যাধিক গরম না হওয়ার কারণে শরীরে এনার্জি এবং শক্তি থাকে ঘুরে বেড়ার
জন্য অপরদিকে গরমকালে শরীর থেকে অনবরত ঘাম বের হওয়ার কারণে শরীরের শক্তি বা
এনার্জি কমে যায় ফলে ভ্রমণ কালে ঘুরে বেড়ানোর সময় টা উপযোগী মনে হয়
না।
কক্সবাজার
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় সমুদ্র সৈকত এর কথা বলতে হলে অর্থাৎ বাংলাদেশের কোন
জায়গায় ঘুরতে চাইলে প্রথমে চলে আসবে কক্সবাজারের কথা কক্সবাজার শুধুমাত্র
বাংলাদেশের নয় পুরো বিশ্বের সর্ব দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত প্রায় ১২০
কিলোমিটার বালুকনাময় সমুদ্র সৈকত বিশ্বে আর কোথাও নেই, গ্রিনিস বুক অফ
ওয়ার্ল্ড দ্বারা স্বীকৃত এই সমুদ্র সৈকত।
নীল জল কোনা দূরে ঝাউবন এবং পাহাড় একে অপরের সাথে মিলেমিশে একাকার
এর দৃশ্য যেন অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং কক্সবাজারকে পুরো
বাংলাদেশকে নয় বিশ্বকেও ভ্রমণের এক মাত্র সৌন্দর্যের জায়গা হিসেবে পরিচিত
করেছে।
সৈকতের মূল আকর্ষণঃ
কক্সবাজার মানে সমুদ্র সৈকত,সমুদ্র সৈকতের তীরে দাঁড়িয়ে সূর্য উদয় বা
সূর্য অস্ত্র দেখা সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করা, একের পর এক ঢেউ এসে তীরে আছড়ে
পড়া কক্সবাজারের মূল আকর্ষণ। এই সৈকতে জুড়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন রকম পয়েন্ট।
সে পয়েন্টের মধ্যে অর্থাৎ কক্সবাজার ঢোকার প্রধান ফটকের সাথে যে বীজ রয়েছে
লাবনী বিচ, তার পাশে সুগন্ধা বিচ এবং এর পরে রয়েছে কলাতলী
বিচ।
সব গুলো বিচের রয়েছে আলদা বৈশিষ্ট্য। কক্সবাজার শহর থেকে সৈকতে ঢোকার
প্রধান ফটক এ রয়েছে লাবনী বিচ এবং এ বীচকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে
বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্ট বিশেষ করে ঝিনুক ও শামুকের এর তৈরি বিভিন্ন
জিনিসপত্র এর মার্কেট, হোটেল গুলো এই বিচ এর কাছাকাছি হওয়ায় এই বিচে
সবসময় মানুষ জন বেশি থাকে।
লাবনী বিচ থেকে দক্ষিনে কিশু দূর হেঁটে গেলেই পাওয়া যাবে সুগন্ধা বিচ ।
এই পয়েন্টটি অপেক্ষাকৃত শান্ত লাবনী বিচ থেকে এখানে
সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ওয়াটার বোর্ড, বিভিন্ন
ধরনের রাইড এ বীচে পাওয়া যায়। ছোট ছোট বিভিন্ন রেস্তোরা
এখানে দেখা যায় যেখানে সামুদ্রিক বিভিন্ন ধরনের মাছ বা খাবার এই বীচে পাওয়া
যায় । এ বিচের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এখানে স্থানীয় শিল্পীদের বা
ফটোগ্রাফিদের বেশি দেখা যায়।
সুগন্ধা বিচ থেকে আরও একটু দক্ষিনে গেলে পাওয়া যাবে কলাতলী বিচ । এই
বিচের আশেপাশে বিভিন্ন ছোটখাট সব ধরনের রেস্টুরেন্ট, আবাসিক অর্থাৎ কম
দামে বা বেশি দামে সব ধরনের আবাসিক হোটেলগুলো কাছাকাছি হওয়ায় এদিকে লোকজন
সমাগম খুব বেশি হয়।সূর্য অস্ত দেখার জন্য কলাতলী বিচ বেশ বিখ্যাত ।
বিচ বেশ বড় হওয়ায় এখানে হাটা চলা করা সহজ হয় এবং এখান থেকেই ইনানী বা
হিমছড়ি যাবার জিপ,চান্দের গাড়ি বা সিএনজিগুলো এখান থেকেই পাওয়া
যায়।
আশে পাশের দর্শনীয় স্থান ঃ
কক্সবাজারে সুবিশাল সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি বেশ কিছু দর্শনের স্থান রয়েছে
আশেপাশে সেগুলো আপনার ভ্রমণ যাত্রাকে আরো দৃষ্টিমধুর করে তুলবে বলে বিশ্বাসী
তাই আজকের আর্টিকেলে সেসব স্থান সম্বন্ধে আপনাকে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।
হিমছড়ি ঝরনা ও পাহাড়ঃ
হিমছড়ি ঝর্ণা ও পাহাড় দেখার জন্য আপনাকে হালকা ট্রেকিং করে পাহাড়ে উঠতে হবে
যা আপনার ভ্রমণযাত্রাকে আরেকটু রোমাঞ্চকর করে তুলবে পাহাড়ে ওঠার ট্রাকিং
অত্যন্ত অ্যাডভেঞ্চার মনে হবে এবং সর্বোচ্চ পাহাড় থেকে সমুদ্র সৈকতের এক
অসাধারণ ভিউ দেখার অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ ।
ইনানী বিচ ঃ
কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের মূল অংশ থেকে অর্থাৎ যেখানে হোটেল গুলো অবস্থিত
সেখান থেকে অল্প কিছু দূরে রয়েছে ইনানী বিচ এখানে পাথরের অংশ রয়েছে
অর্থাৎ পাথরের স্তুপ রয়েছে। যেখানে আপনি দাঁড়িয়ে বা বসে কিছু সুন্দর মুহূর্ত
আপনার ক্যামেরায় ক্যামেরাবন্দি করতে পারবেন যা আপনার স্মৃতি স্বরূপ আপনাকে
আপনার ভ্রমণের দিনগুলি ভবিষ্যতে মনে করে দেবে এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার
এক অসাধারণ অনুভূতি আপনার স্মৃতির পাতায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মহেশখালী দ্বীপঃ
এখানে যেতে হলে আপনাকে নৌকায় যেতে হবে যা আপনার ভ্রমণ যাত্রার এক অসাধারণ
মুহূর্ত হয়ে থাকবে আপনার মনে। এখানকার আদি মন্দির আপনার ভ্রমণকে
আনন্দায়ক করে তুলবে রয়েছে লবণ ও চিংড়িঘাট সেটিও সৌন্দর্য বা জ্ঞানের কোন
অংশে কম নয়।
সেন্টমার্টিন ভ্রমণ ঃ
কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য এবং তার আশেপাশের স্থানগুলো সৌন্দর্য উপভোগ
করে যদি আপনি বাড়তি একটি রাত এবং আপনার ভ্রমণকে অন্যরকম রোমাঞ্চকর অবস্থায়
নিয়ে যেতে চান তাহলে আমি বলব সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করে আসতে কারণ সমুদ্রের মাঝে
জাহাজে করে ভ্রমণ করে সেন্ট মার্টিনে পৌঁছানো এবং একটি দ্বীপের মতো জায়গায়
একটি রাত যাপন করা আপনার ভ্রমণ কে সত্যি অসাধারণ একটি স্মৃতি এনে দেবে।
ভ্রমণের সময়কাল ঃ
কক্সবাজার ভ্রমণ এমনিতে সবসময় করা যায় কিন্তু ভ্রমণের সৌন্দর্য সম্পূর্ণভাবে
উপভোগ করার জন্য কিছু সময়কাল মেনে চললে আমার মনে হয় অন্যরকম শান্তি এবং
সৌন্দর্য দেখার সুযোগ করে দিবে তারপরও কোন সময় ভ্রমণ করলে কি ধরনের সুযোগ
সুবিধা পাওয়া যায় তা বর্ণনা করার চেষ্টা করব আজকের আর্টিকেলে।
অক্টোবর থেকে মার্চঃ
বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী এই সময় বাংলাদেশে ঠান্ডা বা শীতকাল থাকে আর এই
সময় সমুদ্র শান্ত থাকে যার কারণে ভ্রমণে অতিরিক্ত গরম আপনাকে বিরক্ত করবে
না বরঞ্চ ঠান্ডা আবহাওয়া এবং মনোরম সমুদ্র সৈকতের দৃশ্য এ সময় আপনাকে
মনোমুগ্ধকর এক জগতে নিয়ে যাবে আমার মনে হয় ভ্রমণের জন্য এটি উপযুক্ত
সময়।
এপ্রিল থেকে জুন ঃ
এই সময়টিকে ধরে নেওয়া হয় পিক সিজন অর্থাৎ এ সময় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে
প্রচুর পর্যটকদের ভিড় থাকে যার ফলে বাড়তি কিছু সুবিধা পাওয়া গেল অসুবিধা কোন
অংশে কম নয় বছরে অন্যান্য সময়ের থেকে এ সময় হোটেল পাওয়া বেশ দুষ্কর হয় এবং
এর ফলে হোটেল ব্যয় একটু বেশি হয় অর্থাৎ হোটেল মালিক গুলো এই সময় তাদের হোটেল
ভাড়া বা রুম ভাড়া বছরের অন্যান্য সময় থেকে বেশি নিয়ে থাকে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরঃ
বাংলাদেশের সাধারণত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের দিকে বৃষ্টিপাত হয় এবং এ সময়
বর্ষাকাল থাকার ফলে সমুদ্র অধিকাংশ সময় উত্তল থাকতে পারে। এবং এ সময়
অধিকাংশ সময় বৃষ্টিপাত হওয়ার কারণে আপনার যাত্রা কে বিলম্বিত বা বিরক্তিকর
কারণ হয়ে তুলতে পারে যদিও এই সময় কক্সবাজার ভ্রমণের পিক সেজে না হওয়ায়
হোটেলগুলো ভাড়া কম থাকে এবং এ সময় পর্যটকদের ভিড়ও কম দেখা যায় আমার
ব্যক্তিগত অভিমত অনুযায়ী এ সময় কক্সবাজার ভ্রমণ থেকে বিরত থাকাই ভালো।
কুয়াকাটা
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় সমুদ্র সৈকত এর মধ্যে কক্সবাজার প্রথম
তালিকা থাকলেও আমার মনে হয় দ্বিতীয় তালিকায় কুয়াকাটার অবস্থান
যা অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর এবং কিছু বিশেষ গুণের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি
সমুদ্র সৈকত আজকের আর্টিকেলে আলোচনা করার চেষ্টা করব কিভাবে কখন কোথায়
থাকবেন এসব বিষয়গুলো সম্বন্ধে যাতে পূর্ণাঙ্গ ধারণা আপনাদের জন্য সহযোগিতার
একটি উৎস হয়ে দাঁড়ায় আমার এই আর্টিকেল।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে অবশিষ্ট কুয়াকাটা একটি বিখ্যাত সমুদ্র সৈকত ও
পর্যটনকেন্দ্র এটি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় অবস্থিত এবং সাগরকন্যা
নামেও পরিচিত এরূপ বৈচিত্র এবং অসাধারণ প্রকৃতির রূপের জন্য এর নাম সাগরকন্যা
আমার মনে হয় যথার্থ বটে। এর সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হলো একই স্থান থেকে
সূর্য উদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার সৌভাগ্য হয়।
সৈকতের মূল আকর্ষণঃ
কুয়াকাটার নামকরণের পিছনে একটি ইতিহাস রয়েছে ধারণা করা হয় প্রায়
আড়াইশো বছর আগে বা তারও অধিক সময় আগে এখানে রাখাইন সম্প্রদায় একটি অঞ্চল
বসতি স্থাপন করেছিল যা কালের পরিক্রময় এখন আর নেই বললেই চলে খুবই ছোট
পরিসরে এখনো আছে ইতিহাসটি হল যখন এখানে রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস স্থাপন
করে তখন তারা পানির জন্য অর্থাৎ সুপ্রিয় পানি ক্ষরণ করে সে কুয়া থেকে এ
এলাকার নামকরণ হয়েছে কুয়াকাটা আজও কুয়াকাটাই রাখাইন সম্প্রদায়ের বসবাস
ও সংস্কৃতির রয়েছে যা খুবই স্বল্প পরিসরে।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ঘেরা এই সৈকতটি প্রায় 30 কিলোমিটার দীর্ঘ প্রশস্ত
ও মনোরম নরম বালুকণা শান্ত ঢেউ এবং একই স্থান থেকে সূর্য উদয় এবং
সূর্যাস্ত দেখার অপরূপ সৌন্দর্য পৃথিবীর সমুদ্র সৈকত গুলোর মধ্যে এমন দৃশ্য
বা সৌন্দর্য খুব কম সংখ্যক দেশে এমন সমুদ্র সৈকত রয়েছে যেখানে একই
স্থান থেকে সূর্য উদয় এবং সূর্যাস্ত দেখা যায়।
আশে পাশের দর্শনীয় স্থান ঃ
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পাশে রয়েছে আরও অনেক দর্শনীয় স্থান এর মধ্যে
উল্লেখযোগ্য হল লেম্বুর বন যা একটি ছোট ম্যানগ্রোভবন ফাত্রা চর ও গঙ্গামতি
সংরক্ষিত বন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান এছাড়া কুয়াকাটার রাখাইন
পলিতে গেলে তাদের জীবন যাপন হস্তশিল্প সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছুই জানতে
পারবেন এবং তাদের জীবন জীবিকা সম্বন্ধে জানা যাবে কেমন ছিল তাদের জীবন
জীবিকা।
কুয়াকাটা শিল্পের জন্য বেশ পরিচিত এখানে তাজা চিংড়ি কোরাল রূপচাঁদা মাছ সহ
বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায় পাশাপাশি কুয়াকাটা শুটকি মাছ সারা
দেশে বিখ্যাত এ পর্যাপ্ত ওরা এখানে আসে এবং শুটকির সংগ্রহ করে আবার শুটকির
বানানো বিভিন্ন প্রক্রিয়া গুলো দেখে ধারণা করতে পারে কিভাবে শুটকি তৈরি করা
হয়। এমন সব স্মৃতিগুলো পর্যটকদের স্মৃতির পাতায় তোলা থাকে।
ভ্রমণের সময়কাল ঃ
কুয়াকাটা ভ্রমণের জন্য অক্টোবর মাস থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ভ্রমণের উপযুক্ত
সময় কারণ এই সময়ে সমুদ্রব্য পেয়ে শান্ত থাকে এবং বৃষ্টি বাদল বা প্রাকৃতিক
দুর্যোগ হওয়া সম্ভাবনা অনেকটাই কম থাকে যার ফলে এ সময় কুয়াকাটা ভ্রমণের
জন্য সর্বোচ্চ উৎকৃষ্ট সময় বলে আমি মনে করি গরমের সময় যেমন বছরে অন্যান্য
সময় গুলোতে প্রচন্ড গরম থাকে বাংলাদেশে যার ফলে আপনার ভ্রমণ
যাত্রাকে বিরক্তিকর তৈরি করতে পারে শীতের সময় আবহাওয়ার ঠান্ডা থাকে
এবং সমুদ্র ও শান্ত থাকে যার ফলে এটি উপজাতের সময়।
সেন্টমার্টিন
বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত নিয়ে যদি আলোচনা করা যায় তার মধ্যে সেন্ট
মার্টিন কে নিয়ে আলোচনা হবে না এটা কখনো ভাবা যায় না। সেন্ট মার্টিন
দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্ব অঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত একটি
অপরূপ প্রাকৃতিক দ্বীপ। এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলা থেকে
প্রায় নয় কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এবং বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ
হিসেবে পরিচিত। যেহেতু বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং এই দ্বীপে
যেতে বা রাত্রিযাপন করতে যাওয়ার জন্য সমুদ্র পাড়ি দিয়ে টিপে পৌঁছাতে হয়
তার জন্য এই দ্বীপের আকর্ষণ ভবন পিপাসু মানুষদের কাছে অত্যন্ত বেশি।
সাদা বালুকণা ও নারিকেল শাড়ি পর্যটক কেন্দ্রে পরিণত করেছে। অসংখ্য
নারকেল গাছ সেন্ট মার্টিন এ রয়েছে যার ফলে স্থানে হবে সেন্টমার্টিন এর নাম
কিন্তু নারিকেল জিনজিরা। স্থানীয়ভাবে এই দ্বীপটি নারিকেল জিনজিরা
নামে পরিচিত। ব্রিটিশ আমলে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয় সেন্ট মার্টিন
আর তার জন্যই পুরো দেশব্যাপী বাংলার মানুষ জন থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী এই
দ্বীপকে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নামেই সবাই জেনে এবং জানে।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল স্বচ্ছ নীল পানি বা প্রবাল পাথর ভাটার সময়
সমুদ্রের নিচে রঙিন প্রবাল ছোট মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী দেখা
যায়। সূর্যাস্তের সময় সমুদ্রের বুকে লালচে আলো ছড়িয়ে পড়ে এক
মনোমুদ্ধকর দৃষ্টির সৃষ্টি করে যা স্মৃতির পাতায় রেখে দেওয়ার মতো একটি
স্মৃতিচারিত মুহূর্ত হয়ে থাকে। দ্বীপের চারপাশে হেঁটে বেড়ানো এবং
সমুদ্র ঢেউ শব্দ উপভোগ করা ভ্রমণকারীদের জন্য এক অন্যান্য রকম অভিজ্ঞতা
আমার কাছে তাই মনে হয়।
আশে পাশের দর্শনীয় স্থান ঃ
সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আরো রয়েছে কিছু আকর্ষণীয় স্থান যা মূল দ্বীপ বা মূল অংশ
থেকে একটু দূরে এর মধ্যে অনুতাপ হলো ছেঁড়া দ্বীপ যেটি আমি বলেছিলাম যা মূল
দ্বীপ থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত। ছেড়া দ্বীপ এর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য
জরের সময় যেমন আপনি নৌকায় সেখানে যেতে পারবেন এবং ভাটার সময় ছেড়ে দিতে যেতে
হলে আপনাকে হেঁটে যেতে হবে অর্থাৎ দুই পদ্ধতিতেই আপনি ছেড়ে দিতে সৌন্দর্য
উপভোগ করতে পারবেন।
এছাড়াও দ্বীপের জেলেপাড়া লাইট হাউজ এলাকা এবং সৈকতগুলো পর্যটকদের কাছে খুব
পছন্দ এবং জনপ্রিয় বটে দ্বীপের মানুষের জীবন যাপন খুব সহজ ও সাদামাটা অধিকাংশ
মানুষ মাছ ধরা নারিকেল চাষ ও পর্যটক নির্ভর কাজে জড়িত থাকে। এখানকার
মানুষের আন্তরিকতা ও প্রতিটি আপ্যায়ন দেখে মনোমুগ্ধকর হবে যে কোন পর্যটক বা
ভ্রমণকারী সেন্ট মার্টিন এর আরেকটি বড় আকর্ষণ হল তাজা সামুদ্রিক
মাছ। যেহেতু অধিকাংশ মানুষ এখানে মৎস্য শিকারের সাথে জড়িত তাজা মাছ এখানে
পাওয়া যাবে এটাই স্বাভাবিক ব্যাপার।
ভ্রমণের সময়কাল ঃ
সমুদ্র বছরে অধিকাংশ সময় উত্তাল থাকে বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর দেখা
দেয় তার জন্য সেন্ট মার্টিন যেহেতু একটি দ্বীপ সেহেতু সেন্টমার্টিন
ভ্রমণের জন্য রয়েছে কিছু উপযুক্ত সময় অর্থাৎ নভেম্বর থেকে মার্চ মাস
পর্যন্ত সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কারণ এই সময়ে সমুদ্র শান্ত থাকে
এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে। সাধারণত টেকনাফ থেকে জাহাজে করে সেন্ট
মার্টিনে যেতে হয় পরিবেশ রক্ষার জন্য বর্তমানে সরকার নির্দিষ্ট সময় ও
নিয়মের মধ্যে পর্যটক নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং এই সময়ের মধ্যেই সেন্ট মার্টিন
যেতে হয়।
সবশেষে বলা যায় প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শান্ত পরিবেশ এবং সমুদ্র ও জলরাশি যারা
বেশি পছন্দ করে তাদের জন্য সমুদ্র সৈকতের উৎকৃষ্ট স্থান হল সেন্ট
মার্টিন, সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে আপনার ভ্রমণটিকে আরো দায়ক ও স্মৃতি মধুর
করে রাখবে বলে আমি মনে করি।
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত
বাংলাদেশের সেরা দর্শনীয় সমুদ্র সৈকত এর বিবেচনায় আমার কাছে মনে হয় চতুর্থ
স্থান দখল করে আছে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত। কারণ হিসেবে বলা যায় বর্তমানে
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং সরকারের উদ্যোগে
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সেজেছে অন্য একরূপে চলুন আলোচনা করা যাক আজকের আর্টিকেলে
কেন এই সমুদ্র সৈকত বর্তমানে দিনে দিনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও অতি পরিচিত পজেটিক কেন্দ্র
এর অন্যতম কারণ এটি চট্টগ্রাম মহানগরীর দক্ষিণ প্রান্তে কর্ণফুলের নদীর মোহনায়
বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত শহরের খুব কাছাকাছি অবস্থান কারণে সমুদ্র সৈকতের
প্রতিদিনই অসংখ্য দর্শনীয় পর্যটক ভিড় করে এই সমুদ্র সৈকতে কারণ হিসেবে বলা
যায় সমুদ্র সমুদ্রের সৌন্দর্য বড় বড় জাহাজ কিনারায় দেখা যায় তীরবর্তী
স্থানে বড় বড় জাহাজের চলে যাওয়া।
সর্বোপরি অসম্ভব একরকম পরিবেশ সৃষ্টি হয় সমুদ্র সৈকতে এবং এই সৈকতে বর্তমানে
বিভিন্ন শহরমুখী উন্নয়ন অর্থাৎ বসার বেঞ্চ বিভিন্ন দোকানের সহজলভ্যতা যেমন
চটপটির ফুচকা আইসক্রিম সর্বোপরি আপনার কিছু ভালো সময় অতিবাহিত করার জন্য এখানে
একটি সুন্দর মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে বর্তমান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
এই সৈকতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর মনোরম সুন্দর সূর্যাস্ত। বিকেলের দিকে
সমুদ্রের বুকে সূর্য ডুবে যাওয়ার দৃশ্য অত্যন্ত হৃদয়গামী সৈকতের পাশ দিয়ে
চলাচল করে সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে কর্ণফুলী নদীর মোহনা হয় এখানে নদী ও
সমুদ্রে মিলন দেখা যায় যা পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে অন্য সমুদ্র সৈকত থেকে আলাদা
করেছে।
আরও একটি কথা না বললেই না পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ১০ রাতের জন্য রয়েছে নানা
বিনোদনের ব্যবস্থা শওকতের পাশে হেঁটে বেড়ানোর জন্য প্রশস্ত হাঁটার পথ বসার
জন্য বেঞ্চ এবং শিশুদের খেলার জায়গা রয়েছে সন্ধ্যা বেলায় রঙিন আলো ও বাতাসের
শীতলতা এক মহরম পরিবেশ তৈরি করে।
ভ্রমণের সময়কাল ঃ
ভ্রমণের জন্য খুব পতাকা সমুদ্র সৈকত সারা বছরই উপযোগী তবে শীতকাল ও বিকেল
বেলায় এখানে ভ্রমণকারীরা সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় চট্টগ্রাম শহরের যে কোন
স্থান থেকে বাস বা সিএনজি ও ব্যক্তিগত গাড়িতে সহযোগী পতেঙ্গা পৌঁছানো যায়
এবং সর্বোপরি বলা যায় যে শহরের কাছাকাছি হওয়ায় এটি শহরের মানুষের কাছে
অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি স্থান নিজের অবসর সময়টুকু পার করে সুন্দর একটি
মুহূর্ত স্মরণীয় করে রাখার জন্য।
তাই এখানে যাওয়ার জন্য তেমন কোনো সময়কাল এর প্রয়োজন পড়ে না বা প্রয়োজন
হয় না সব সময় সারা বছরই বিশেষ করে বিকেলের দিকে পর্যটকদের বেশি দেখা যায়
অনেকে আসে নিজের সময়টুকু অতিবাহিত করার জন্য প্রিয়জনের সাথে বা
পরিবার-পরিজন নিয়ে জন্মদিন বা বিভিন্ন উৎসব পালন করার জন্য আসলে সবচেয়ে বড়
কথা হচ্ছে চট্টগ্রাম এর বাসিন্দা বা এলাকাবাসী এবং চট্টগ্রামের ভ্রমণ পিপাসু
মানুষদের সময় কাটানোর জন্য বিভিন্ন অজুহাত মাত্র।
আসলে এখানে সময় কাটাতে সবারই অন্যরকম আনন্দ লাগে যার কারণে সবাই শুধু অজুহাত
খোঁজে কি করে এখানে আনন্দটাকে আরো একটু বাড়িয়ে নেওয়া যায় তাই সবাই
বিভিন্ন অকেশন বা বিভিন্ন সময় নিজের সময়টুকু উপভোগ করার জন্য এবং স্মরণীয়
করে রাখার জন্য এখানে ভিড় জমায়।
শেষ কথা
সবশেষে একথা বলতে চাই বাংলাদেশের সেরা দর্শনের সমুদ্র সৈকত এর মাঝে আমার
কাছে মনে হয় এই চারটি স্থান এ জনপ্রিয়তা দিন দিন যেমন বেড়ে চলেছে অতীতেও
এর জনপ্রিয়তা কোন অংশে কম ছিল না এবং দিন দিন বেড়ে চলেছে এবং ভবিষ্যতে
বাড়বে কারণ সমুদ্র ভালোবাসা না এমন মানুষ পাওয়া হয়তো খুব দুষ্কর পৃথিবীর
বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন দেশে সমুদ্র সৈকত উত্তম এবং সর্বোপরি সবার কাছে
গ্রহণযোগ্য একটি পর্যটক কেন্দ্র।
তাইতো বিভিন্ন দেশে সমুদ্র সৈকতকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে হোটেল মোটেল সহ
বিভিন্ন অস্থায়ী আবাসিক স্থান এবং এই সৈকতের পাশেই বিভিন্ন রকম বিভিন্ন
রকমারি দোকান অর্থাৎ ঝিনুক যেগুলো সাধারণত সমুদ্র সৈকত বা সমুদ্রে পাওয়া
যায় সেসব জিনিসপত্র নিয়ে অলংকার তৈরি করে সেগুলো বিক্রয়
কেন্দ্র। সমুদ্রে চিংড়ি বা শুটকি এবং সামুদ্রিক বিভিন্ন মাছ
যেখানে বসে সেগুলো ওখানে ভেজে খাওয়ার মত আনন্দ।
সবাইকে আজকের আর্টিকেল থেকে বিদায় জানিয়ে নতুন আর্টিকেল এর স্বাগতম
জানিয়ে শেষ করছি আজকের আর্টিকেলটি আর্টিকেলটি কেমন লাগলো লাইক কমেন্ট
শেয়ার এর মাধ্যমে প্রকাশ করবে আপনার একটি কমেন্ট আমাদের কাছে অত্যন্ত
মূল্যবান সর্বোপরি চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের সেরা দর্শনের সমুদ্র সৈকত এর
ব্যাপারে সম্পূর্ণ ধারণা দেওয়া সবাই ভালো থাকবেন এ আশায় শেষ করছি আজকের
আর্টিকেলটি।
টাইম বিডি ২৪ নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url